আজ বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জামিনে মুক্তি পেলেও কারাফটক থেকেই আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটিকে। তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শ্রীপুর আঞ্চলিক বাহিনীর অধিনায়ক আকবর হোসেন মিয়ার ছেলে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে।

এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

কারাফটক থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার বিষয়ে কুতুবুল্লাহ হোসেনের ছোট ভাই এবং শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান শরিয়ত উল্লাহ রাজন বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে আমাদের কারও নাম নেই। ভাই আমেরিকায় থাকা অবস্থায় তার নামে দুটি মামলা হয়। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দেশে ফিরে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন এবং আদালত থেকে জামিন পান।

ভাইয়ের  কোনো দুর্বলতা নেই বলেই তিনি দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হয়েছেন। এবারের সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার জামিন পেলেও কারাফটক থেকে আবারও অন্যায়ভাবে আটক করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে রাজন বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার ভাই মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সিরাজুল আকবরের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। জনগণ তাকে বিজয়ী করলেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ফল ঘোষণা দেওয়া হয়।

তিনি দাবি করেন, সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজী তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি বিজয়ী হন। আমাদের পরিবারের জনপ্রিয়তাকে ভয় পেয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। সেই একই ধারাবাহিকতা এখনও চলছে।

মাগুরা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, কুতুবুল্লাহ হোসেনের  নামে অন্য মামলা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার  করা হয়েছে। আজ বুধবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Exit mobile version