আজ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফরিদপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে হোটেলে নিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ২ এপ্রিলের এ ঘটনায় বুধবার কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী।

ওই নারী ফরিদপুর পৌরসভার বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে চার দিন চিকিৎসা নিয়ে গতকাল বাড়ি ফিরেছেন। হাসপাতাল থেকে তাঁকে দেওয়া ছাড়পত্রে ‘যৌন হয়রানি’ করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সুজন শেখ (৩৫)। তিনি শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার প্রয়াত হালিম শেখের ছেলে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, ১০ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। এরপর থেকে অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কোনো দিন খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে। আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। সম্প্রতি তাঁকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন সুজন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর ভাষ্য, কার্ড করার জন্য তাঁকে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার কথা জানান সুজন। তাঁর কথামতো ২ এপ্রিল সকালে রিকশায় রওনা হন ওই নারী। শহরের গোয়ালচামটে পুরাতন বাস টার্মিনালের ভাঙ্গা রাস্তার মোড়ে নিয়ে নামানো হয়। সেখান থেকে নতুন বাস টার্মিনাল সড়কের দিকে কিছু দূর হেঁটে একটি আবাসিক হোটেলের সামনে যান। সুজন তাঁকে জানান, এখানেই উপজেলা পরিষদের অফিস। তাঁর কথা অনুযায়ী ওই নারী আবাসিক হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর একটি কক্ষে নিয়ে হঠাৎ দরজা বন্ধ করে দেন সুজন। চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন। এরপর একটি রিকশায় বাড়িতে ফিরে আসেন ওই নারী। ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ঘটনাটি খুলে বলেন। এরপর অসুস্থবোধ করায় দ্রুত তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসা নিয়ে ৬ এপ্রিল বাড়ি ফেরেন।

তিনি বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমি তো অফিস চিনি না। সুজনের কথা অনুযায়ী সেখানে গেছিলাম। কারণ আমার স্বামী নেই। সংসারে অভাব-অনটন থাকায় সরকারের সুবিধা পাওয়ার জন্য বিশ্বাস করেই সুজনের সঙ্গে গিয়েছি। কিন্তু আমার জীবনটারে শেষ কইরা দিল, আমি ওর বিচার চাই।’

অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে সুজন শেখ বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে আমার নামে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে। ওই নারী কার্ড করার জন্য মাঝেমধ্যেই আমার বাড়িতে আসত। ওইদিনও আমার বাড়িতে আসে। তখন আমি উত্তেজিত হয়ে জোরে একটি লাথি মেরেছিলাম। এ কারণে আমার নামে মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছে।’

কোতোয়ালি থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, গতকাল এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ করেন। ঘটনার প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Exit mobile version