
দেখতে অবিকল কলমের মতো, ওপরে রয়েছে পুশ-বাটন আর সামনে সুচালো নিব। তবে এতে কোনো কালি নেই, বরং ভেতরে লুকানো রয়েছে প্রাণঘাতী ০.২২ ক্যালিবারের বুলেট। সাধারণ মানুষের চোখে এটি নেহাতই একটি কলম হলেও, একটি মোচড় দিয়ে বাটনে চাপ দিলেই এটি রূপ নেয় ভয়ংকর এক মরণাস্ত্রে।
সম্প্রতি রাজধানীর পুরান ঢাকায় এক যুবদল নেতাকে হত্যাচেষ্টায় এমনই এক ‘পেন গান’ বা ‘কলম পিস্তল’ ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। আকারে ছোট হওয়ায় সহজে লুকিয়ে রাখা যায় এবং গুলি ছোড়ার আগ পর্যন্ত শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব বিধায় এটি ঢাকার অপরাধ জগতে এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
গত ৩ এপ্রিল পুরান ঢাকার নয়াবাজারে দিনের বেলা রাসেল নামের এক যুবদল নেতাকে গুলি করার ঘটনার তদন্তে নেমে এ অস্ত্রের সন্ধান পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জানা যায়, পূর্বপরিচিতদের ডাকে নয়াবাজারের একটি বাসায় যাওয়ার পর তাকে পেন গান দিয়ে গুলি করা হয় এবং পরে হামলাকারীরাই তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার ছায়া তদন্ত করে ডিবির লালবাগ বিভাগের একটি দল যাত্রাবাড়ী থেকে সাইমন ও কেরানীগঞ্জ থেকে সোহেল ওরফে কাল্লু নামের ২ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে কাল্লুর কাছ থেকে একটি সিগারেটের প্যাকেটের ভেতরে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় বিশেষ এ অস্ত্রটি জব্দ করা হয়।
ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মো. নাসিরুল ইসলাম জানান, এটি কোনো সাধারণ আগ্নেয়াস্ত্র নয় এবং এর আগে ঢাকায় এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই। গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, অস্ত্রটি তারা ৮০ হাজার টাকায় কিনেছিল এবং এটি আরও বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদক সংক্রান্ত কোনো বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
জব্দ করা অস্ত্রটিতে কোনো কোম্পানির লোগো বা মার্কিং না থাকায় এর উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ অস্ত্র ভারত বা পাকিস্তান থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হতে পারে। এর কারিগর বা পাচারের সঙ্গে সম্পর্কিতদের এবং অন্য কোথাও এর ব্যবহার হয়েছে কি না, তা বের করতে ডিবির একাধিক দল কাজ করছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, পেন গান মূলত এমন একটি ছোট আগ্নেয়াস্ত্র যা দেখতে সাধারণ কলমের মতো এবং সাধারণত ০.২২ বা ০.২৫ ক্যালিবারের গুলি ছুড়তে সক্ষম। আধুনিক সংস্করণের এ অস্ত্রগুলো একবারে একটিমাত্র গুলি ছুড়তে পারে, যেখানে রিমফায়ার বা সেন্টার-ফায়ার কার্ট্রিজ ব্যবহৃত হয়। এদিকে, শুধু ঢাকাতেই নয়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, বিশেষ করে খুলনার উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর হাতেও এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পুলিশের কাছে আসছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গভীর চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

