
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বিএনপির দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে শিমরাইল মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য উচ্ছেদ অভিযানে বিঘ্ন ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের পূর্বনির্ধারিত উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবির ছেলে যুবদল নেতা রিয়াজুল ইসলাম রিনাজ, রতন ও রানাসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল শিমরাইল মোড় এলাকায় অবস্থান নিয়ে মহড়া দিচ্ছিল।
একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল কাদির গ্রুপের জিহাদ ও রবিনসহ ১০ থেকে ১২ জনের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
এ সময় পাশে থাকা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু সংঘর্ষ আরও ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে একাধিকবার কল করলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি এবং মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল কাদিরকে কল করা হলে তিনি কলটি কেটে দেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, শিমরাইল মোড়ে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বিএনপির সমর্থক দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনাটি উচ্ছেদ অভিযান বা ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে হয়নি। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, মূলত মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই দুই গ্রুপের মধ্যে এই মারামারির সূত্রপাত হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, শিমরাইল মোড়ে অবৈধ দখলদার ও হকারদের উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজা ও মাহমুদুল হাসান। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

