থানায় ঢুকে ওসিসহ পুলিশকে মারধর, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা
প্রকাশের তারিখঃ ২৬ মার্চ, ২০২৬
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ওসিসহ একাধিক পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় নামীয় ৯ জন ও ১২ থেকে ১৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। একজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে মামলা ও ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শরীফ আল রাজীব। এর আগে গতকাল রাত ১০টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় এ ঘটনা ঘটে। পরে থানার আহত এএসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে এই মামলা করেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক পলাশ আহমেদকে (৩৫)। পলাশ আহমেদ গৃধারীপুর গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- একই গ্রামের মাহফুজ রহমান সিনহা (২৮), তৌহিদুল ইসলাম কানন (৩৩), মেহেদী হাসান (৩৫), সাদ্দাম হোসেন (৩০) ও শাওন (৩৫)।
এছাড়া বৈরীহরিনামারী গ্রামের গোলজার রহমান (৩২), পূর্ব গোপিনাথপুর গ্রামের সবুজ মিয়া (৩২) ও জামালপুর গ্রামের আব্দুল মালেক (৩৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ১০টার কিছু সময় আগে মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে একটি অভিযোগ পত্রসহ পলাশবাড়ী থানায় যান এবং ওসির সঙ্গে কথাবার্তার এক পর্যায়ে তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়।
পুলিশের দাবি, ওই জামায়াত নেতা থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে অমীমাংসিত একটি খোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু ওসি বিষয়টি করতে পারেন না এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে ওই নেতা ওসিকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এতেও শেষ পর্যন্ত ওসি রাজি না হলে ওই নেতাসহ তার সঙ্গে থাকা যুবকেরা ওসির ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে ওসিকে আক্রমণসহ মারধর করেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকে মারধর করা হয়, এতে এক নারী কনস্টেবলসহ পুলিশের নয় সদস্য আহত হয়। পরে আহত পুলিশ সদস্যরা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত সন্দেহে তৌহিদুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তৌহিদুল ইসলাম দৈনিক গণকন্ঠের পলাশবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনার পরেই পলাশবাড়ী থানায় যান গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের জামায়াতের এমপি নজরুল ইসলাম লেবু ও স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তারা সিসি ফুটেজ দেখে কারা অপরাধী তা শনাক্তের দাবি জানান।
পলাশবাড়ী থানার আহত এএসআই রুহুল আমিন বলেন, সাড়ে ৯টার দিকে জামায়াত নেতা পলাশ মোবাইল ফোনে কধা বলতে বলতে থানায় প্রবেশ করে। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায় শিবিরের সবাই আসেন থানা ঘেরাও করতে হবে। এসবের একপর্যায়ে আমি তাকে আটকাতে গেলে আমার হাতে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। ঘটনার সময় পলাশের সঙ্গে ৭ থেকে ৮ জন যুবক ছিলেন বলেও জানান তিনি।
আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ সোহাগ বলেন, রাত সোয়া ১০টার দিকে এএসআই রুহুল আমিন ও এসআই রাসেলসহ আহত সাতজন পুলিশ সদস্য চিকিৎসা নেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আউটডোরে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, আমাদের পরিষ্কার কথা, ওই ঘটনায় যারা জড়িত এবং অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে, অন্যায়ভাবে কাউকে যেন হয়রানি না করা হয়।
গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) এবিএম রশিদুল বারী বলেন, ঘটনাটি উপজেলা প্রশাসনের সরকারি জায়গার একটি দোকান নিয়ে। ওই দোকানটিকে কেন্দ্র করে এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি এবং মামলাও হয়েছে। এর মধ্যেই বিবাদী পক্ষ দোকানটি খোলেন। সেই বিষয় নিয়ে জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা এসে ওসিকে প্রেসার দিয়ে দোকানটি বন্ধ করতে বলেন। ওসির পক্ষ থেতে দোকানটি উপজেলা প্রশাসনের এবং তিনি বন্ধ করতে পারেন না জানালেও তারা সেসব কথা না শুনে চড়াও হন। একপর্যায়ে সংবদ্ধ হয়ে আসা ব্যক্তিরা ওসিসহ অন্যন্যা পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা-মারধর করেন।
এ সময় সিসি ফুটেজ প্রকাশ প্রশ্নে তিনি বলেন, পর্যালোচনা চলছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্পাদক: মো: রবিউল হক। প্রকাশক: মো: আশ্রাফ উদ্দিন । প্রকাশক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২, টয়েনবি সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে মুদ্রিত দেলোয়ার কমপ্লেক্স, ২৬ শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা), ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে প্রকাশিত । মোবাইল: ০১৭৯৮৬৫৫৫৫৫, ০১৭১২৪৬৮৬৫৪ ওয়েবসাইট : dailyjanadarpan.com , ই-পেপার : epaper.dailyjanadarpan.com