জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ঈদ। চাইলেই দিনটি কেটে যেতে পারত প্রটোকল আর আনুষ্ঠানিকতার ভেতর দিয়ে। তবে সেই পথ না বেছে ভিন্ন এক সিদ্ধান্ত নিলেন জেলা প্রশাসক রায়হান কবির—তিনি সময় কাটালেন এতিম শিশুদের সঙ্গে।
শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতরের সকালে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় শেষে তিনি যান নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মুসলিমনগর সরকারি শিশু পরিবার (বালক) এতিমখানায়।
সেখানে ছিল না কোনো আনুষ্ঠানিকতার চাপ। ছিল আন্তরিকতা, কুশল বিনিময়, আর শিশুদের সঙ্গে কিছু নির্ভেজাল সময় কাটানো। জেলা প্রশাসককে কাছে পেয়ে শিশুদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে উচ্ছ্বাস। কেউ এগিয়ে এসে কথা বলে, কেউ বা নীরবে হাসিতে প্রকাশ করে আনন্দ।
জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, “এতিম শিশুদের মুখে হাসি দেখলেই মনে হয়, ঈদের আসল আনন্দটা এখানেই।”
তিনি আরও বলেন, ঈদ তার কাছে শুধু উৎসব নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি উপলক্ষ।
আলাপচারিতার একপর্যায়ে উঠে আসে তার নিজের শৈশবের স্মৃতি। তিনি জানান, একসময় ঈদ মানেই ছিল নতুন জামা, সেলামি আর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানো।
“ওদের যেমন শৈশব আছে, আমারও ছিল। তখন ঈদের আনন্দটা অন্যরকম ছিল, কিন্তু অনুভূতিটা আজও একই,” বলেন তিনি।
সময়ের সঙ্গে নিজের ভূমিকার পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। “ছোটবেলায় আমরা আনন্দ পেতাম, আর এখন সেই আনন্দ অন্যদের দিতে পারছি—এটা অনেক বড় তৃপ্তি,” যোগ করেন তিনি।
ঈদের মূল বার্তা হিসেবে ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবার জন্য সমান আনন্দ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি। “ঈদের দিনে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়, এই দিনটি সবার জন্যই বিশেষ,” বলেন রায়হান কবির।
শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানোর ফাঁকে তাদের ঘুরতে যাওয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে। এবার সঙ্গে যেতে না পারলেও তাদের আনন্দের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার কথা জানান তিনি। “ওরা যখন পার্কে ঘুরবে, আনন্দ করবে—সেই ছবি দেখে মনে হবে আমিও তাদের সঙ্গে আছি,” বলেন জেলা প্রশাসক।



