
গাজীপুর প্রতিনিধি-
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস-এ ভারপ্রাপ্ত নায়েব (সহকারী কর্মকর্তা) আনোয়ার সাহেবের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের বাইরে অফিস পরিচালনা ও দালালদের মাধ্যমে সেবা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রমজান মাসে সরকারি অফিসের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। তবে স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আনোয়ার সাহেব রাত ৮টা পর্যন্ত দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তাকে অফিসে দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন ভূমি দালাল নিয়মিত অবস্থান করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই চক্রটি এলাকায় “আনোয়ারের বাহিনী” নামে পরিচিত।
সরেজমিনে গিয়ে ও একাধিক সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের পর সাধারণ মানুষের অফিসে প্রবেশ প্রায় সীমিত হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় অফিস কক্ষে নায়েবের উপস্থিতিতে দালালরাই কাগজপত্র প্রস্তুত, খাজনা আদায় ও নামজারির কাজ সম্পন্ন করেন। এসব সেবার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তার কোনো রশিদ দেওয়া হয় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন,
“জরুরি একটি নামজারির কাজ ছিল। সরাসরি গেলে কাজ হয় না। এক দালালের মাধ্যমে রাত ৮টায় নায়েব সাহেবের সঙ্গে দেখা করি। সরকারি ফি ৫০০ টাকা হলেও দালালি বাবদ অতিরিক্ত ৩০০০ টাকা দিতে হয়েছে। কোনো রশিদ দেয়নি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, যারা দালালের মাধ্যমে যান তাদের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়, আর যারা সরাসরি আবেদন করেন তাদের ফাইল দীর্ঘদিন আটকে থাকে। ফলে সাধারণ মানুষ অনিচ্ছাসত্ত্বেও দালালদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অফিসে গিয়ে আনোয়ার সাহেবকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। অফিসে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুরোনো সেবাদানকারী হিসেবে পরিচয় দিলেও তাদের নিয়োগসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। রাত ও ছুটির দিনে অফিস খোলা এবং দালালদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তারা সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তবে একজন দাবি করেন, “উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই কাজ করা হয়।”
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, “সরকার নির্ধারিত সময়ের বাইরেও কাজের প্রয়োজনে সরকারি কর্মচারীরা অফিস করতে পারেন। তবে সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর প্রশ্ন—সরকারি সময়সূচি উপেক্ষা করে রাত ও ছুটির দিনে অফিস পরিচালনার যৌক্তিকতা কী? অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের পেছনে কারা জড়িত? সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি

