আজ
|| ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
সোনারগাঁয়ে পিবিআই পুলিশের চৌকস অভিযানে অটোরিকশা চালক হত্যাকান্ডের রহস্যে ৫জন গ্রেপ্তার
প্রকাশের তারিখঃ ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
সোনারগাঁ(প্রতিনিধি): নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী অটোরিকশা চালক মো. সোহেল মিয়া হত্যাকান্ডের ঘটনার চারদিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুইজনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইকৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শনিবার সকালে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করেছে।গ্রেপ্তারকৃত জড়িতরা হলো- মো. সুজন মিয়া (৩৩), মো.শফিকুল ইসলাম হীরা (৩৯)। তাদের সহযোগী মো.দুলাল মিয়া (৪৫), মো.আব্দুর রহিম মিয়া (৫৫) ও মো. আবুল কাশেম(৪০)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি রূপগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়।জানা যায়,নিহত সোহেল শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। এরপর আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় রাস্তার পাশে একটি লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পরিবার। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা লাশটি সোহেলের বলে শনাক্ত করে তার পরিবার। লাশের নাক, মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. মহসিন মিয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআই অধিগ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।পিবিআই প্রেস বিফিংয়ে জানায়, অর্থের অভাবে আসামি সুজন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম হীরা পরিকল্পিতভাবে সোহেলকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার বিকেলে তারা সোহেলের অটোরিকশা ভাড়া করে স্থানীয় একটি বাজারে যান। সেখানে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে সোহেলকে খাওয়ানো হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে তাকে মুছারচর এলাকার একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সোহেলের হাত, নাক ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে মোড়িয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। হত্যাকান্ডের পর ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি রূপগঞ্জ এলাকার একটি গ্যারেজে রাখা হয়। পরে তা বিক্রি করা হয়। অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত তিন আসামি জিজ্ঞাসাবাদে চোরাই অটো কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইকৃত ও চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলেও জানিয়েছেন।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম হীরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অন্য তিনজন ছিনতাইকৃত অটো কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সম্পাদক: মো: রবিউল হক। প্রকাশক: মো: আশ্রাফ উদ্দিন ।
প্রকাশক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২, টয়েনবি সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে মুদ্রিত
দেলোয়ার কমপ্লেক্স, ২৬ শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা), ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭৯৮৬৫৫৫৫৫, ০১৭১২৪৬৮৬৫৪
ওয়েবসাইট : dailyjanadarpan.com , ই-পেপার : epaper.dailyjanadarpan.com
Copyright © 2026 Daily Janadarpan. All rights reserved.