
এনজিও থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার জামিনদার হওয়ায় খুন হয় মা-মেয়ে। এমনটাই দাবি করছে থানা পুলিশ।
শুক্রবার সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম সাইফুল আলম জানান, পাশাপশি বাসা থাকায় নিহত রোকেয়ার গৃহশিক্ষিকা মিমের সাথে খুব সম্পর্ক হয়। সম্পর্কের ফলে নিহত রোকেয়া জামিনদার হয়ে তিনটি এনজিও থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেয় গৃহশিক্ষিকা মীমকে।
আর সেই টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়াতেই কাল হয় মেয়ে ফাতেমা ও মা রোকেয়া। প্রথমে মেয়ে রোকেয়াকে গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে গৃহশিক্ষিকা মীম (২২) ও তার ছোট বোন নুর জাহান। এরপর মেয়ের মা রোকেয়াকে ফোন দিয়ে জানায় আপনার মেয়ে অসুস্থ। মেয়ে ফাতেমাকে বাসায় নিয়ে যেতে মা রোকেয়া গৃহশিক্ষিকা মীমের বাসায় প্রবেশ করলে মীম ও নুরজাহান দুই বোন মিলে গলায় ওড়না পেচিয়ে রোকেয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
হত্যা করে সেই লাশ খাটের নিচে রেখে খাটের উপরে ঘুমায় মীম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই জানিয়েছেন আটককৃত গৃহশিক্ষিকা মীম ও তার বোন নুরজাহান।
সিসি টিভির ফুটেজ এ দেখা গেছে মেয়ে ফাতেমা শিক্ষিকার বাড়িতে প্রবেশ করছে। হত্যাকাণ্ডের পর ফাতেমার ড্রেস নুরজাহান পরে সেই বাসা থেকে বের, এটা বোঝানোর জন্য যে মেয়ে ফাতেমা শিক্ষিকার বাসা থেকে বের হচ্ছে। আসলে সেটি ছিল মীমের ছোট বোন নুরজাহান।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম সাইফুল আলম আরও জানান, এই ঘটনায় মীম ও তার বোন নুরজাহানকে গ্রেপ্তার করে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় গত ২৭ ডিসেম্বর জিডি হয় ও গত ৬ জানুয়ারি নিহত রোকেয়ার স্বামী শাহীন বাদি হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে (অপহরণ) অজ্ঞাত নামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার নিখোঁজের ২১ দিন পর কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তির বাগ এলাকার গৃহশিক্ষিকা মীমের বাসা থেকে মা রোকেয়া ও মেয়ে ফাতেমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মা ও মেয়ে নিখোঁজ হয়। ২৬ তারিখে থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করা হয় এবং গত ৬ জানুয়ারি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

