
স্টাফ রিপোর্টার : সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল মেঘনা অয়েল ডিপো থেকে চালান ছাড়াই ১৫টি ড্রামে ৩ হাজার লিটার ডিজেল বাইরে বের করার ঘটনার পর ডিপোর সহকারী ব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) মাসুদ হাসান এহসানকে কুমিল্লা অটোমেটেড পেট্রোলিয়াম ডিপোয় বদলি করা হয়েছে।
২৪ ডিসেম্বর বুধবার মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (এইচ আর, অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বদলির তথ্য জানানো হয়। একই আদেশে ফতুল্লা ডিপোর সহকারী ব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) কামরুল হাসানকে গোদনাইলে ডিপোতে বদলি করা হয়। একই কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত আরেকটি অফিস আদেশে ওই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কোম্পানির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. শরিফুল ইসলামকে (ডিপো অপারেশন্স) এ তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুজন সদস্য হলেন ডেপুটি ম্যানেজার (অডিট) মো. গোলাম মহিউদ্দিন এবং ঢাকা রিজিওনাল অফিসের ডেপুটি ম্যানেজার (সেলস) মো. আনোয়ার হোসেন। কমিটিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ প্রতিবেদন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর ৭ দিনের মধ্যে পেশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এদিকে গঠিত তদন্ত কমিটি গেলো ৩০ ডিসেম্বর ডিপোতে এসে তদন্ত করে। জনদর্পণের অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিএস মাহবুবের পরিবর্তে মিটারম্যান সবুজের কাঁধে দায় চাপানোর সুযোগ রেখে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন পেশ করবে বলে জানা যায়। যাকে বলে ‘উধোর পিন্ডি বুধোড় ঘাড়ে ‘ চাপানোর চেষ্টা। কারণ গেট থেকে কিভাবে গাড়ী চালান ব্যতীত বের হলো সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। ট্যাংকলরী মালিক শ্রমিকরা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এদিকে গত ৩০ ডিসেম্বর ডিএস মাহবুবের অপসারণ দাবি করে ডিপোর সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন ট্যাংকলড়ী চালক ও শ্রমিকরা। তারা দুর্নীতিবাজ ডিএস মাহবুবুর রহমানের অপসারণ দাবি করেন অন্যথায় ডিপো বন্ধ করে কর্মবিরতি পালনের হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সম্প্রতি মেঘনা অয়েল ডিপো থেকে গোদনাইল এলাকার রাব্বি ট্রেডার্সের নামে ১৫টি ড্রামে তিন হাজার লিটার ডিজেল ভর্তি করা হয়েছিল। প্রতিটি ড্রামে ছিল ২০০ লিটার করে ডিজেল। অর্থ পরিশোধের চালান ছাড়াই ড্রামগুলো নিয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে পিকআপটি ডিপো থেকে বের হওয়ার পর এলাকাবাসী সেটি আটক করেন। সন্ধ্যার আগে রাব্বি ট্রেডার্সের পক্ষে চালান নিয়ে এলে পিকআপটি ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে ওই ঘটনায় সহকারী ব্যবস্থাপক মাসুদ হাসান এহসানকে কুমিল্লায় বদলি করা হলেও ডিপোর আরেক সহকারী ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান (প্রশাসন) বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ডিপো সংলগ্ন এলাকাবাসীর মধ্যে নানা গুঞ্জন দেখা দেয়। ওই এলাকার একাধিক জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীর অভিযোগ, মাহবুবুর রহমান চার মাস আগে এই ডিপোতে যোগদান করার পর থেকে ব্যাপক অনিয়ম ও চালান ছাড়া ডিপো থেকে জ্বালানি তেল বের হওয়ার ঘটনা ঘটছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ডিএস মাহবুবের পৈতৃক নিবাস বগুড়ার গাবতলীতে। সেখানকার সাবেক বিএনপির এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর সাথে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে সাবেক এই এমপিকে দিয়ে তদবির করান ডিএস মাহবুব। বিপিসির বর্তমান চেয়ারম্যান একসময় বগুড়ার গাবতলীর ইউএনও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে তার সাথেও পূর্ব ঘনিষ্ঠতা থাকায় বিভিন্ন অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন ডিএস মাহবুব বলে অভিযোগ ডিপো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সবচেয়ে ভালো পোস্টিং চট্টগ্রামের গুপ্তখাল ডিপো, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ডিপো ও খুলনা জেলার দৌলতপুর ডিপো। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে মেঘনার বিতর্কিত সাবেক এমডি টিপু সুলতানের সাথে সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে তিনি দৌলতপুর ডিপো ও বাঘাবাড়ি ডিপোতেও কর্মরত ছিলেন। গত ০৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে বিএনপির সাবেক এমপি লালু ও টিপু সুলতানের মাধ্যমে তিনি গোদনাইল মেঘনা ডিপোতে যোগদান করেন। তিনি মেঘনা ডিপোতে যোগদানের পর এ ডিপোতে চলছে জ্বালানি তেল চুরির মহোৎসব। প্রতিদিন গোপনে চালান ছাড়াই লুট হচ্ছে হাজার হাজার লিটার তেল। অভিযোগ রয়েছে, এই তেল চুরির সাথে জড়িত ডিপোর ডিএস মাহবুব থেকে শুরু করে সিকিউরিটি গার্ড পর্যন্ত। বিএনপি’র সাথে সম্পর্ক থাকায় ডিএস মাহবুব এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে বলে জানা যায়। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তাদের প্রশাসনের ভয়-ভীতি দেখান ডিএস মাহবুব। সম্প্রতি এক তুচ্ছ ঘটনায় আরিফ নামে এক শ্রমিকের নামে মামলা করান বলে অভিযোগ করেন ডিপো কর্মকর্তারা।
এদিকে ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার জ্বালানি তেলবাহী পিকআপ আটকের পর সন্ধ্যায় ডিপোর কর্মকর্তা ডিএস মাহবুবের অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তাদের অপসারণসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী ও জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা অবিলম্বে এডিএস মাসুদের মতো ডিএস মাহবুবেরও গোদনাইল মেঘনা ডিপো হতে প্রত্যাহার দাবি করেন।

