নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন পঞ্চবটীস্থ যমুনা অয়েল কোম্পানির জেটিতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে পাক হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে বুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসিয়ে দিত সে সকল নাম না জানা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হয়েছে।
১৫ ডিসেম্বর সোমবার বিকেল ৩টায় ফতুল্লা থানাধীন পঞ্চবটীস্থ যমুনা অয়েল কোম্পানির জেটিতে সংলগ্ন বধ্যভূমিতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ শ্রদ্বাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( সার্বিক) মোহাম্মদ আলমগীর হোসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী, ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল মান্নান, বীরমুক্তিযোদ্বা মোহাম্মদ আলী সহ বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারারা।
শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন শেষে
বক্তাবলির ১৩৯ জন শহীদদেরকে সরকারি স্বীকৃতি দেবার দাবী করে জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে বীরমুক্তিযোদ্বা মোহাম্মদ আলী বলেন, ১৩৯ জন মুক্তিযোদ্ধা বক্তাবলিতে রাতের অন্ধকারে মেরে ফেলা হয়েছে। সেখানে কিছু হয়নি। সরকারিভাবে কোন স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আমাদের জেলা প্রশাসক সেখানেও গিয়েছেন।আমি আশাকরি এই ১৩৯ জনকে সরকারি অনুদান বা স্বীকৃতি যাইহোক তাদের অন্তত দেওয়া হোক।
জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, পঞ্চবটীর এই বধ্যভূমিটি আসলে বেদনাবিধুর কালের একটি সাক্ষী। ওই সময় মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবার, বিভিন্ন সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধাদের যারা সহযোগিতা করেছে, বুদ্ধিজীবীদের ধরে এনে অনেককে হত্যা করে এখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে।পরবর্তীতে লাশ এখানে ভেসে উঠতো। খুবই দুঃখজনক একটা বিষয়। এত ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা পাওয়া স্বাধীনতাকে কখনো আমরা অবমূল্যায়ন করতে পারি না। স্বাধীনতাটা কক্ষতে রাখার জন্য এবং স্বাধীনতা সকলের সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্যই আমরা কাজ করে যেতে চাই এবং যারা এ অবদানটা রেখেছে তাদেরকে সারাজীবন শ্রদ্ধার জায়গায় রেখে যেতে চাই আমরা। আজকের দিনে এটা থাকবে আমাদের প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা দাবী করেছে আমরা যেন তাদের সম্মান দেই। আমরা সব সময় মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবারদেরকে সব সময় শ্রদ্ধা করি।আমরা সমাজের সকল মানুষকে জানাবো যার যতটুকু শ্রদ্ধা তাকে যেন সেই শ্রদ্ধাটুকু দেওয়া হয়। আজকে ফুল দিয়ে সারা বছরের শ্রদ্ধা জানো হয়ে গেলো না। আমরা যেন সারা বছর তাদের এই শ্রদ্ধাটুকু দেই। আমাদের যেখানে ন্যায়বিচার থাকবে, সেখানে সমতা থাকবে। যেখানে শ্রদ্ধা থাকবে মানুষে মানুষের প্রতি সেখানে সমবেদনা থাকবে একে অপরের প্রতি, দেশের জন্য ভালো করার আগ্রহ থাকবে এবং আমরা সকলকে নিয়ে কারো জন্য কম বেশি না সমানভাবে সুযোগ থাকবে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে এই জন্যই তো আমাদের আন্দোলন। এই আন্দোলনগুলোকে আমরা বৃথা যেতে দিবো না, ন্যায়ভিত্তিক একটা দেশ গড়ে তুলবো।


