
সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের শুভজন্মের পূর্বরাতে তাঁর সম্মানিত মাতা হযরত সৈয়দা জোবেদা খাতুন (রহ.) স্বপ্নে দেখেন আকাশে ঈদের চাঁদ উদিত হয়েছে। গ্রামবাসী সকলে ঘর থেকে বের হয়ে মহানন্দে ঈদের চাঁদ দেখছেন। ঐ চাঁদ দেখার জন্য তিনিও ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন। তিনি যখন অপলক দৃষ্টিতে চাঁদের দিকে তাকালেন, সাথে সাথে আকাশের চাঁদটি তাঁর কোলে নেমে আসে। তিনি ঈদের চাঁদ কোলে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। এরপর তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। তিনি বুঝতে পারলেন, তাঁর পরম কাঙ্খিত সৌভাগ্যবান সন্তানটির জগতের বুকে আসার সময় হয়ে গেছে। সেদিনই সকাল ১০টায় মহান রাব্বুল আলামিনের অপার দয়ায় সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান আপন পিত্রালয়ে জগতের বুকে তশরিফ আনেন। সেদিন ছিল বুধবার, ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ; ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দ। পিতা আলহাজ হযরত সৈয়দ আবদুর রশিদ সরকার (রহ.) ও মাতা হযরত সৈয়দা জোবেদা খাতুন (রহ.)-এর ছয় পুত্র ও দুই কন্যা ছিলেন; পুত্রগণের মাঝে সূফী সম্রাট ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।
শিক্ষাজীবন
বীর মুক্তিযোদ্ধা সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান পার্শ¦বর্তী গ্রাম সোহাগপুরের প্রাইমারি স্কুলে কৃতিত্বের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে নায়েবে রাসুল হবার অদম্য বাসনা নিয়ে আরবি ও ইসলামি শিক্ষা লাভের জন্য তদানীন্তন বিখ্যাত ‘তালশহর করিমিয়া আলীয়া মাদ্রাসা’-তে ভর্তি হন। অসাধারণ মেধাবী ও কৃতী ছাত্র হিসেবে তিনি বৃত্তি সহকারে মাদ্রাসা শিক্ষার উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি স্বীয় অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণে মাদ্রাসার ছাত্র সংসদের ভি. পি পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান
১৯৬৯ সালের স্বাধিকার আন্দোলনে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পশ্চিমাঞ্চলের মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজ ছাত্রদের সমন্বয়ে গঠিত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ছিলেন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে, তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিষদের সদস্যদের নিয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক দল পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক বিতাড়িত মানুষের অন্ন সংস্থান ও নিরাপত্তা প্রদান করে। অতঃপর ১১ই এপ্রিল সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান তাঁর দলের ৭২ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম কয়েক মাস তিনি প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে ৩নং সেক্টর ও ‘এস’ ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ্র তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন রণাঙ্গনে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেন। এরপর তিনি ভারতের হেজামারায় অবস্থিত ৩ নং সেক্টর হেড কোয়ার্টারে চলে যান এবং মুক্তিযুদ্ধের বাকিটা সময় সেখানে প্রশিক্ষণরত মুক্তিযোদ্ধাদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করার বিশেষ দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি ভারতে দুটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯শে নভেম্বর ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে হেজামারা ক্যাম্পে উদ্যাপিত ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করেন। নামাজের পর তিনি খুৎবা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলে ওঠেন, “ঈদের চাঁদ! ফিরে যাও তাদের কাছে, যারা আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। আমাদের আবার কীসের ঈদ!” সূফী সম্রাটের এরূপ জ্বালাময়ী বক্তব্য শুনে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাগণ কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের বিচ্ছেদ যাতনায় কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন। খুৎবার এক পর্যায়ে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান মুক্তিযোদ্ধাগণকে সান্ত¦না দিয়ে বলেনÑ “আল্লাহ্র কসম! আগামী ঈদুল আজহার আগে দেশ স্বাধীন হবে। আমি আপনাদেরকে নিয়ে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করব।”
খুৎবার পর সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান মোনাজাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মহান আল্লাহ্র দরবারে কান্নাভেজা কণ্ঠে প্রার্থনা করেন। সেদিনের ঈদের নামাজটি ছিল ৩ নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাগণের জন্য একটি অবিস্মরণীয় দিন। কেননা মাতৃভূমি ত্যাগ করে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, পরিবার-পরিজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মুক্তিযোদ্ধাগণ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে ঈদের নামাজ আদায় করেন। তারপর সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লার অন্তর্ভেদী বক্তব্য এবং যুদ্ধে আশু বিজয়ের বলিষ্ঠ ভবিষ্যদ্বাণী মুক্তিযোদ্ধাগণকে নতুন শক্তিতে বলীয়ান করে তুলেছিল। সেই ঐতিহাসিক দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তৎকালীন ১১তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এ্যাডজুটেন্ট মেজর নাসির উদ্দিন তাঁর লিখিত যুদ্ধে যুদ্ধে স্বাধীনতা নামক গ্রন্থের ২৩৫ পৃষ্ঠায় লিখেছেনÑ
“সেদিন ছিল ঈদ। সকালে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দের মধ্যেই ১১ ইষ্ট বেঙ্গল শিবিরে অনুষ্ঠিত হলো ঈদের জামাত। সৈনিক এবং অফিসারদের অনেকেই বিষণ্ন মন নিয়ে যোগ দিলো নামাজে। মোনাজাতের সময় ইমাম অঝোরে কাঁদছিলেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য সৃষ্টিকর্তার অনুকম্পা চাইলেন।” মহান আল্লাহ্ তায়ালা সেই ঈদের জামাতের খুৎবায় সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লার ভবিষ্যদ্বাণী কবুল করে নিলেন। আল্লাহ্ পাকের অসীম রহমতে সূফী সম্রাটের খুৎবার মাত্র ২৭ দিন পর ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় লাভ করে। পরবর্তীতে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লা সত্যি সত্যিই তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ঢাকার তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দানে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ঈদুল আজহার জামাতে ইমামতি করেছিলেন।
সাধনা জীবন
সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান স্বাধীনতার পর ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে নবগঠিত ১৬ নং বেঙ্গল রেজিমেন্টের ধর্মীয় শিক্ষক পদে যোগদান করেন। তদানীন্তন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্টে ধর্মীয় শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকারী আলেমগণের মধ্যে তিনি শীর্ষস্থানীয় ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি পবিত্র কুরআন ও হাদিস শরিফের গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন এবং নিয়মিত তাফসীর মাহ্ফিল করে একজন প্রজ্ঞাবান মুফাস্সিরে কুরআন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। অতঃপর ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ৬ই জানুয়ারি তিনি তৎকালীন যুগের শ্রেষ্ঠ অলী, ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহ.)-এর পরিচয় পেয়ে তাঁর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহ.) সুযোগ্য উত্তরসূরী সূফী সম্রাটকে কাছে রাখার জন্য নিজে উৎসাহী হয়ে স্বীয় চতুর্থ কন্যা সৈয়দা হামিদা বেগম (রহ.)-কে তাঁর কাছে বিবাহ দেন। সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) তরিকতের সবক গ্রহণের পর থেকে কঠোর ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে গভীর সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি তাঁর মুর্শেদ ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহ.)-এর নির্দেশে সেনাবাহিনীর চাকুরিতে ইস্তফা দিয়ে মোর্শেদের দরবার শরীফে গমন করেন। তখন ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহ.) সূফী সম্রাটের উপর তরিকা ও দরবার শরিফ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে তাঁকে প্রধান খলিফা নিযুক্ত করেন। চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের প্রধান খলীফা ও ওলামা মিশনের প্রধান হিসেবে তরীকা প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ওয়াজ মাহফিল করেন; যেখানে প্রায়ই নানা অলৌকিক ঘটনা পরিলক্ষিত হতো, এবং তাঁর বক্তব্য শুনে মুগ্ধ হয়ে অগণিত মানুষ তরীকা গ্রহণ করত। এমনকি বহু অমুসলিম তাঁর সাহচর্যে এসে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করত।
সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান ইসলাম ধর্মে মিশে যাওয়া কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাস দূর করে ধর্ম পালনের সঠিক পথনির্দেশনা দিতে ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে মহান আল্লাহ্র পক্ষ থেকে ‘জামানার মোজাদ্দেদ’ বা মহান সংস্কারকের দায়িত্ব লাভ করেন। ২৪শে আগস্ট, ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ (১৪০৯ হিজরির ১০ মহররম) তিনি সমকালীন যুগের হাদিগণের ইমামের দায়িত্ব লাভ করেন। মোহাম্মদী ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ জগতে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ৫ই এপ্রিল, ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.)-কে ‘মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জবীনদানকারী’ খেতাবে ভূষিত করেন।
সূফী সম্রাটের প্রধান ৪টি শিক্ষা
সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুরের প্রধান শিক্ষা ৪টি, যথাÑ ১। আত্মশুদ্ধি, ২। দিল জিন্দা, ৩। নামাজে হুজুরি এবং ৪। আশেকে রাসুল হওয়া। তাঁর শিক্ষাসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা উপস্থাপন করা হলো-
১। আত্মশুদ্ধি : আত্ম অর্থ নিজ, নফ্স তথা জীবাত্মা। আর শুদ্ধি অর্থ পবিত্রকরণ। সুতরাং আত্মশুদ্ধি অর্থ নিজের নফ্স বা জীবাত্মাকে পরিশুদ্ধ করা, অর্থাৎ আত্মশুদ্ধির মর্ম হচ্ছে নিজের নফ্সকে ষড়রিপুর বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা। মহান আল্লাহ্? নিজেই বলেনÑ “অবশ্যই সফলকাম হয়েছে সে ব্যক্তি, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর ব্যর্থ হয়েছে সে ব্যক্তি, যে নিজেকে পাপাচারে কলুষিত করেছে।” (সূরা-আশ শামস-৯১ : আয়াত-৯ ও ১০) কুল-কায়েনাতের রহমত বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) বর্বর আরবজাতিকে আত্মশুদ্ধির এ সুমহান শিক্ষা দিয়েই আদর্শ চরিত্রবান রূপে গড়ে তোলেন এবং সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য অনুসরণীয়, পরিশুদ্ধ এক মানব সভ্যতা বিনির্মাণ করেন। এজন্য যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজানের প্রধান চারটি শিক্ষার মধ্যে প্রথম শিক্ষাই হলো আত্মশুদ্ধি।
২। দিল জিন্দা : দিল অর্থ হৃদয়। পবিত্র কুরআনে হৃদয়কে ক্বালব বলা হয়েছে। আর জিন্দা অর্থ জীবিত। অর্থাৎ ক্বালব বা হৃদয়ে আল্লাহ্র জিকির জারি করার মধ্য দিয়ে দিল জিন্দা করা। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে এরশাদ হচ্ছেÑ “দুর্ভোগ তাদের জন্য, যাদের ক্বালব বা হৃদয় কঠোর, আল্লাহ্র জিকির থেকে গাফেল বা বিমুখ। তারা রয়েছে প্রকাশ্য গোমরাহীতে।” (সূরা-আঝ ঝুমার-৩৯ : আয়াত-২২) সুতরাং মহান আল্লাহ্র জিকির ক্বালবে জারি করে মানুষ যেন সুস্পষ্ট গোমরাহী থেকে মুক্তি লাভ করে এবং ক্বালবে নুরে ঈমান লাভ করে ইসলামের শান্তি যেন বাস্তবে হৃদয়ে উপলব্ধি করতে পারে। এ কারণে সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান তার পবিত্র শাহাদত অঙ্গুলি মোবারকের স্পর্শে তরীকা গ্রহণকারী মানুষের ক্বালবে আল্লাহ্ শব্দের নূর বপন করে ক্বালব জিন্দা করে দেন।
৩। নামাজে হুজুরী : নামাজে হুজুরী অর্থ পরিপূর্ণ একাগ্রতার সাথে নামাজ আদায় করা। অর্থাৎ আমাদেরকে নামাজে এমনভাবে দাঁড়াতে হবে যে, পরম করুণাময় আল্লাহ্ আমাকে দেখছেন, আমি কী বলছি তিনি তা শুনছেন, সুতরাং মহান আল্লাহ্কে হাজির, নাজির, ওয়াহিদ জেনে একাগ্রতার সাথে তাঁর সামনে উপস্থিত হওয়া এবং আল্লাহ্র নূরের কদম মোবারকে সিজদা করা। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ্ এরশাদ করেনÑ “অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে, যারা নিজেদের নামাজে বিনয়-নম্র, যারা অনর্থক বিষয় থেকে দূরে থাকে।” (সূরা-আল মুমিনূন-২৩ : আয়াত-১ থেকে ৩) সেই সাথে হাদীস শরীফে আল্লাহ্র রাসুল (সা.) এরশাদ করেনÑ “হুজুরী দিল বিহনে নামাজ কবুল হয় না।” [নূরুল-আসরার (নূর তত্ব)-১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৫] এজন্য সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান নামাজে হুজুরী শিক্ষা দেন। এ মহামানবের শিক্ষা গ্রহণ করে নামাজ প্রেমে মশগুল অবস্থায় নামাজ আদায় করা যায় । আর এভাবে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে পারলে আত্মশুদ্ধি লাভ করা যায় এবং নামাজে মি‘রাজ তথা আল্লাহ্র দীদার লাভ হয়।
৪। আশেকে রাসুল হওয়া : পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ এরশাদ করেনÑ “হে মাহ্বুব (সা.)! আপনি বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহ্কে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ্ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন। অবশ্যই আল্লাহ্ পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়াময়।” (সূরা- আলে ইমরান-৩ : আয়াত-৩১) আল্লাহ্র রাসুল (সা.) এরশাদ করেনÑ “যে ব্যক্তি নিজের পিতামাতা, সন্তানসন্তুতি ও অন্য সকল মানুষ অপেক্ষা আমাকে বেশি ভালো না বাসবে, সে মু‘মিন হতে পারবে না।” (বোখারী শরীফ-১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭; এবং মুসলিম শরীফ-১ম খণ্ড পৃষ্ঠা-৪১) এজন্য সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান মানুষকে আশেকে রাসুল হওয়ার শিক্ষা দেন, যেন মানুষ সকল কিছু উপেক্ষা করে আল্লাহ্র রাসুল (সা.)-কে বেশি ভালোবেসে মু‘মিন হতে পারে। সূফী সম্রাটের অনুসারীগণকে হযরত রাসুল (সা.)-এর উপর দৈনিক ৭২২ বার দরূদ শরীফ পাঠ করতে হয় এবং রহমতের সময় (তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত) এবং সপ্তাহের সোমবার ও বুধবার বাদ মাগরিব মিলাদ শরীফ পাঠ করতে হয়।
এক নজরে সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজানের সংস্কারমূলক কার্যাবলী
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসুল (সা.) ফরমানÑ “নিশ্চয় মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ্ এই উম্মতের জন্য প্রত্যেক শতাব্দীর শিরোভাগে এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাবেন, যিনি তাদের ধর্মকে সংস্কার করে সজীব ও সতেজ করবেন।” (আবু দাউদ শরীফের সূত্রে মেশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা-৩৬) সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী হুজুর কেব্লাজান স্বধর্মীদের অজ্ঞতা ও বিধর্মীদের চক্রান্তের ফলে ইসলামের নামে পবিত্র কুরআন ও হাদিস বিরোধী যেসব বিধান মুসলিম সমাজে প্রচলিত রয়েছে, তার সংস্কার সাধন করেছেন। দেশে-বিদেশে বিপুলভাবে সমাদৃত এ সংস্কারসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিম্ন সংক্ষিপ্তাকারে দেয়া হলো-
১। আমাদের সমাজে প্রচলিত আছেÑ মহান আল্লাহ্ নিরাকার, তাঁকে দেখা যায় না। সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লা পবিত্র কুরআন-হাদিসের অকাট্য দলিল দিয়ে প্রমাণ করেন, মহান আল্লাহ্র অপরূপ সুন্দর নুরের রূপ আছে, তিনি নিরাকার নন।
২। বর্তমান বিশ্বের মুসলমানগণ বিশ্বাস করে থাকেন, হযরত রাসুল (সা.) গরিব ছিলেন, তিনি ছেঁড়া জামায় ৭০ তালি দিয়ে পরিধান করতেন, তিনি দারিদ্র্যের চরম কষাঘাতে চরম অভাবে দিনাতিপাত করতেন, ক্ষুধার জ্বালায় পেটে পাথর বাঁধতেন। সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী হুজুর কেব্লাজান পবিত্র কুরআন, হাদিস, হযরত রাসুল (সা.)-এর সিরাত গ্রন্থ ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন, হযরত রাসুল (সা.) ছিলেন দোজাহানের বাদশাহ, আরবের সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী।
৩। হযরত রাসুল (সা.) কর্তৃক প্রবর্তিত মোহাম্মদী ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ছিল এলমে তাসাউফ। এই এলমে তাসাউফ চর্চা করেই তৎকালীন আরবের বর্বর মানুষেরা আদর্শ চরিত্রবান হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে আমাদের সমাজের মুসলমানগণ কেবলমাত্র এলমে শরিয়তের উপরই গুরুত্বারোপ করে থাকেন, এলমে তাসাউফ চর্চার গুরত্ব তারা অনুধাবন করতে চান না। ফলে ধর্মের প্রকৃত স্বাদ তাঁরা উপলব্ধি করতে পারছেন না। সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান আল্লাহ্র রাসুল (সা.)-এর সেই এলমে তাসাউফকে সমাজের বুকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। শুধু তাই নয়, সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান এলমে তাসাউফকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রস্তাব দেন। তাঁর প্রস্তাবের যৌক্তিকতা উপলব্ধি করে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম স্টাডিজ বিষয়ে এলমে তাসাউফ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
৪। পবিত্র কুরআনে বহুবার বর্ণিত হয়েছেÑ “আসমান ও জমিনের মালিক একমাত্র আল্লাহ্।” অথচ বৃটিশ আমল থেকে প্রচলিত জমি রেজিস্ট্রেশনের পদ্ধতি অনুসারে আমাদের দেশে জমির দলিলে উল্লেখ করা হতোÑ “আমি এ জমির মালিক। আমার মালিকানা স্বত্ব অমুকের কাছে বিক্রি করলাম।” অথচ নিজেকে জমির মালিক দাবি করা সম্পূর্ণ শিরক। তাই সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান এই ভুল প্রথা পরিবর্তন করার জন্য ইসলামী রীতিতে দলিল লিখন পদ্ধতি উপস্থাপন করেছিলেন এভাবে- “বিসমিল্লাহির রাহ্মানির রাহিম। পরম করুণাময় আল্লাহ্ তায়ালা আসমান ও জমিনের প্রকৃত মালিক। তাঁর বান্দা হিসেবে আমার জমির দখলস্বত্ব অমুকের নিকট বিক্রি করলাম।” এরপর ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে সমগ্র বাংলাদেশে সূফী সম্রাটের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে জমি রেজিস্ট্রেশন প্রচলন করা হয়।
৫। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসুল (সা.) বলেনÑ “দ্বিন জয়ী থাকবে ততদিন, যতদিন লোক শীঘ্র শীঘ্র ইফতার করবে, কেননা ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা ইফতার করে দেরিতে।” (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ শরীফ) অথচ আমাদের দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত সেহরি ও ইফতারের সময়সূচিতে সূর্যাস্তের ১৪ থেকে ১৮ মিনিট পর ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হতো। মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হাদিস অবমাননাকর এ সময়সূচি পরিবর্তনের জন্য সরকারের কাছে যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, সে অনুযায়ী ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বিজ্ঞানভিত্তিক সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রবর্তিত হয়েছে।
৬। বৃটিশ শাসনামলে প্রবর্তিত রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির রেওয়াজ পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশেও পালন করা হতো। যার ফলে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানগণ শুক্রবারের জুমার নামাজ ঠিক মতো আদায় করতে পারতেন না। সূফী সম্রাট কর্তৃক রবিবারের পরিবর্তে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ঘোষণা করার আবেদন ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন সরকার গ্রহণ করেন এবং শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়।
৭। মুসলমানগণের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে, পবিত্র কুরআনের সর্বমোট আয়াত সংখ্যা ৬৬৬৬টি। বিশ্বের বুকে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানই সর্বপ্রথম প্রমাণ করেন যে, পবিত্র কুরআনের সর্বমোট আয়াত সংখ্যা ৬৬৬৬টি নয়, বরং ৬২৩৬টি। তাঁর এ অভিমত সরকার কর্তৃক গৃহীত হয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক জানুয়ারি ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত কুরআন শরিফের সূচিতে পূর্ববর্তী ভুল সংশোধন করে সর্বমোট ৬২৩৬ খানা আয়াত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৮। বিধর্মীরা মুসলমানদের দুটি পবিত্র স্থান মক্কা ও মদীনা শরীফ অবমাননা করার অসৎ উদ্দেশ্যে চক্রান্ত করে, কাবা ও হযরত রাসুল (সা.)-এর রওজা শরীফের ছবি সংবলিত জায়নামাজ তৈরি করে। আর ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ সরল বিশ্বাসে এরূপ জায়নামাজে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতেন। যেহেতু এ দুই স্থানের ছবি পায়ের নিচে রেখে নামাজ পড়া চরম বেয়াদবি; সেহেতু সূফী সম্রাট এরকম জায়নামাজ ব্যবহার অনুচিত প্রসঙ্গে সর্বসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ তাঁর সাথে একমত পোষণ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে এ ধরনের জায়নামাজে নামাজ আদায় না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৯। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছেÑ “হে রাসুল (সা.)! আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগদ্সমূহের প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ্?র জন্য।” (সূরা-আল আন’আম-৬ : আয়াত-১৬২) কিন্তু আমাদের দেশে নিজের নামে, পিতার নামে, এমনিভাবে সাত নামে কোরবানি দেয়ার রেওয়াজ ছিল। সূফী সম্রাট এ ভ্রান্ত ধারণাটি সংশোধন করে বললেন, কোরবানি বান্দার নামে নয়, বরং বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহ্র নামে দিতে হয়। তাঁর আহ্বানে আপামর মুসলমানগণ পবিত্র কুরআন ও হাদিসের শিক্ষানুসারে আল্লাহ্?র নামে কোরবানি দিয়ে নিজেদেরকে শিরক থেকে বিরত রাখার সুযোগ পেয়েছেন।
১০। পূর্বে আমাদের ধারণা ছিল, পবিত্র আশুরা শুধুমাত্র শিয়া সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান। সূফী সম্রাট কুরআন ও হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করেছেন, পবিত্র আশুরা দিবসে আল্লাহ্? তায়ালা আরশে সমাসীন হয়েছিলেন, যে কারণে তাঁর অভিষেক উদ্যাপন উপলক্ষ্যে এদিনে অপরিসীম রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হয়। ফলশ্রুতিতে, এদিন পৃথিবীতে দু’হাজার নবী ও রাসুলের শুভজন্ম-সহ বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। উপরন্তু অসংখ্য নবী ও রাসুল আশুরার বরকতে কঠিন কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি লাভ করেছেন। সূফী সম্রাটের উপস্থাপিত আশুরা দিবসের তাৎপর্য উপলব্ধি করে পরবর্তীতে দিনটি সরকারিভাবে বিশেষ গুরুত্বসহকারে পালন করা হচ্ছে।
১১। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে- “ফেরেশতারা নবীর উপরে দরূদ পাঠ করেন, হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর উপর দরূদ পড়ো এবং শ্রদ্ধার সাথে সালাম পেশ করো।” (সূরা-আল আহযাব-৩৩ : আয়াত-৫৬) একমাত্র মিলাদ মাহ্ফিলে হযরত রাসুল (সা.)-এর শাসে দরূদ পাঠ করে সশ্রদ্ধ সালাম পেশ করা হয়, অথচ আমাদের দেশে এক শ্রেণীর মানুষ মিলাদকে বিদআত ও হারাম বলে আখ্যায়িত করায়, মিলাদের ব্যাপক প্রচলন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। সূফী সম্রাট পবিত্র কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যা দ্বারা প্রমাণ করেছেন, মিলাদ পড়া হারাম নয় বরং ফরজ। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আশেকে রাসুলগণ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে হযরত রাসুল (সা.)-এর সন্তুষ্টি ও দীদার লাভে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও মিলাদের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ আল্লাহ্?র রহমতে বিপদ-আপদ ও রোগ-ব্যাধি থেকে উদ্ধার পাচ্ছেন ।
১৩। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী একটি কথা সমাজে প্রচলিত ছিল যে, ছবি তোলা হারাম। সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লা বিষয়টি পবিত্র কুরআন ও হাদীসের অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণ করেন যে, ইসলামে ছবি তোলা জায়েজ। কেননা এ বিষয়ে পরম করুণাময় আল্লাহ্ কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করেননি। তাঁর এ বক্তব্য মুসলিম জাতিকে একটি গুরুতর বিতর্ক মীমাংসা করতে সাহায্য করে।
১৪। নানা পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটে মুসলমানগণের কর্তব্য ও করণীয় বিষয়ক প্রয়োজনীয় সময়োপযোগী উপদেশ প্রদানের উদ্দেশ্যে, শুক্রবারের জোহর ওয়াক্তের চার রাকাত ফরজ নামাজের পরিবর্তে দু’রাকাত নামাজ ও অবশিষ্ট দু’রাকাতের পরিবর্তে খুৎবার বিধান রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে খুৎবা প্রদান আরবী ভাষায় হওয়ায়, মুসল্লিগণ খুৎবার বিষয়বস্তু বুঝতে পারেন না এবং সেই অনুযায়ী আমল করে তা থেকে উপকৃত হতে অসমর্থ হন। যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান সর্বপ্রথম মাতৃভাষায় খুৎবা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ফলশ্রুতিতে বহু মসজিদে এখন আরবী ভাষার পাশাপাশি বাংলায় খুৎবা দেওয়া চালু হয়েছে।
১৫। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছেÑ “তোমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহ্?র রজ্জুকে শক্ত করে ধরো, এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” (সূরা-আলে ইমরান-৩ : আয়াত-১০৩) হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছেÑ “সকল মুসলমান ভাই ভাই।” অথচ মুসলমানগণ এক আল্লাহ্?র বান্দা ও একই রাসুলের উম্মত হওয়া সত্ত্বেও, বিভিন্ন দেশে ঈদ, রোজা, কোরবানি-সহ বিবিধ ইসলামী অনুষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন তারিখে পালন করে থাকে। চন্দ্র গণনার হেরফেরের কারণে, প্রতি বছর বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি এ অজুহাতে, মক্কা শরীফের সাথে বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান মাত্র তিন ঘণ্টা হওয়া সত্ত্বেও মক্কা শরীফে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের দীর্ঘ এক দিন অথবা দু’দিন পর তা বাংলাদেশে পালন করা হয়। যেহেতু সমগ্র পৃথিবীর জন্য চাঁদ একটি, মুসলিম জাতির কেন্দ্রবিন্দু মক্কা শরীফে চাঁদ দেখার সাথে সঙ্গতি রেখে সারা বিশ্বে একই দিনে যাবতীয় অনুষ্ঠানাদি উদযাপন সম্ভব। সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান এ সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে চান্দ্রপঞ্জিকা প্রণয়নের একটি মডেল মুসলিম বিশ্বের সরকার প্রধানগণের কাছে উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবটি ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)-এর সেমিনারে আলোচিত হলে, সদস্যভুক্ত পঞ্চাশটি দেশের প্রতিনিধিগণ এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। অতঃপর ওআইসি তার সদস্যভুক্ত দেশসমূহকে সারা বিশ্বে একই দিনে ঈদ করার প্রস্তাবনা দিয়ে চিঠি প্রেরণ করে। বর্তমানে এ প্রস্তাবটি বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ বিবেচনাধীন রয়েছে।
কর্মজীবনে অবদান
ধর্মের অসংখ্য সংস্কার সাধনের পাশাপাশি সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনে কর্মময় অগণিত গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল অবদান রেখে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নিম্নে তা সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করা হলোÑ
বীর মুক্তিযোদ্ধা সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়ায় ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে একটি মাদ্রাসা ও একটি এতিমখানা, এবং ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে একটি হাই স্কুল, একটি হাসপাতাল ও একটি ডাকঘর প্রতিষ্ঠা করেন। সে বছরই তিনি চন্দ্রপাড়ায় মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন করে সেখানে বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা করেন। তিনি ইসলামী গবেষণার লক্ষ্যে ঢাকায় ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে সুলতানিয়া-মোজাদ্দেীয়া গবেষণাগার, ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে সূফী ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ, এবং ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে আল কুরআন গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। অতঃপর তিনি গবেষণা কেন্দ্রে মুফাস্সিরে কুরআন, মুহাদ্দেস, মুফতী, বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা প্রফেসর ও বিশিষ্ট ইসলামী গবেষকদের সমন্বয়ে পবিত্র কুরআন গবেষণা প্রকল্প চালু করেন।
ইসলামের আদর্শ বিশ্বময় প্রচারের সুবিধার্থে যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান দেওয়ানবাগ শরীফ প্রতিষ্ঠা করেছেন। সে লক্ষ্যে তিনি রাজধানী ঢাকার ১৫৪ আরামবাগে ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে মোহাম্মদী ইসলামের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এ বছরই তিনি নারায়ণগঞ্জের দেওয়ানবাগে “বাবে জান্নাত” দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলের কমলাপুরে ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে “বাবে মদীনা” প্রতিষ্ঠা করেন। অতঃপর ১৪৭ আরামবাগে ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে “বাবে রহমত” প্রতিষ্ঠা করে, তিনি ১৫৪ আরামবাগ থেকে মোহাম্মদী ইসলামের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুরে ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে “বাবে নাজাত”, ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে “বাবে বরকত” প্রতিষ্ঠা করেন। অতঃপর ক্রমবর্ধমান আশেকে রাসুলদের জোয়ারের সাথে সঙ্গতি বজায় রেখে চুয়াডাঙ্গায় ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে “বাবে নিয়ামত”, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে “বাবে মোর্শেদ”, ঢাকার মগবাজারে ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে “বাবে ফিরদাউস”, এবং ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামে “বাবে মাগফিরাত” ও গাজীপুরে “বাবে জান্নাতুল মাওয়া” দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন । সর্বশেষে রাজশাহীতে ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে “বাবে নূর” দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, জাপান, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, ইতালি, গ্রিস, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর শতাধিক দেশে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় শত শত খানকায়ে মাহবুবীয়া ও জাকের মজলিস প্রতিষ্ঠা করেছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের ন্যায় বহির্বিশ্বে মোহাম্মদী ইসলামের সুমহান আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে গঠন করেছেন- ওয়ার্ল্ড আশেকে রাসুল অর্গানাইজেশন (ডড়ৎষফ অংযবশ-ব-জধংঁষ ঙৎমধহরুধঃরড়হ)। তাঁর তত্ত্বাবধানে সূফী ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র ও গ্রন্থ’াবলীর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের অগণিত মানুষ মোহাম্মদী ইসলামের শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা প্রসঙ্গে বিস্তারিত জ্ঞান লাভের সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁর নির্দেশনায় প্রকাশিত সংবাদপত্রের একটি তালিকা নিম্নে দেওয়া হলো-
বাংলা মাসিক “আত্মার বাণী” (প্রথম প্রকাশ ১৯৮১ খ্রি.), ইংরেজি সাপ্তাহিক ঞযব ডববশষু ঈযধহফৎধঢ়ধৎধ (১৯৮৩ খ্রি.), বাংলা সাপ্তাহিক “দেওয়ানবাগ” (১৯৮৯ খ্রি.), বাংলা দৈনিক “ইনসানিয়াত” (১৯৯১ খ্রি.), ইংরেজি সাপ্তাহিক ডববশষু ঞযব গবংংধমব (১৯৯২ খ্রি.)। এ যাবৎ তাঁর রচিত গবেষণামূলক গ্রন্থসমূহ হচ্ছে- ১। ‘স্রষ্টার স্বরূপ উদ্ঘাটনে সূফী সম্রাট : আল্লাহ্কে সত্যিই কি দেখা যায় না?’ (বাংলা), ‘ঝঁভর ঝধসৎধঃ টহপড়াবৎং অপঃঁধষ ওফবহঃরঃু ড়ভ অষষধয: ওং অষষধয ঘড়ঃ জবধষষু ঝববহ?’ (ইংরেজি অনুবাদ), ২ । ‘বিশ্বনবীর স্বরূপ উদ্ঘাটনে সূফী সম্রাট : রাসুল (সা.) সত্যিই কি গরীব ছিলেন?’ (বাংলা), ‘ঝঁভর ঝধসৎধঃ টহপড়াবৎং ঐরফফবহ ঞৎঁঃয ড়হ এৎবধঃ চৎড়ঢ়যবঃ : ডধং গঁযধসসধফ (ঝস) জবধষষু চড়ড়ৎ?’ (ইংরেজি অনুবাদ), ৩। ‘ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (রহ.)’ [জীবনীগ্রন্থ], ৪। ‘এজিদের চক্রান্তে মোহাম্মদী ইসলাম’, ৫। ‘সূফী সম্রাটের যুগান্তকারী ধর্মীয় সংস্কার-১ম ও ২য় খণ্ড’, ৬। ‘সূফী সম্রাটের যুগান্তকারী অবদান : আল্লাহ্ কোন পথে?’, ৭। ‘আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের সহজ পথ’, ৮। ‘মুক্তি কোন পথে?’, ৯। ‘শান্তি কোন পথে?’, ১০। ‘ঈদ সমস্যার সমাধান’ (বাংলা), ‘ঊরফ গড়ড়হ ঝরমযঃরহম চৎড়নষবস ধহফ ঝড়ষঁঃরড়হ’ (ইংরেজি), ১১। ‘ফেরকা সমস্যার সমাধান’, ১২। ‘সন্তানের প্রতি মায়ের অধিকার’, ১৩। ‘কবর ও মাজার সম্পর্কে ইসলামের বিধান’ ও ১৪। মোহাম্মদী ইসলামের ওয়াজিফা (দৈনিক আমল)। সেই সাথে যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজানের লিখিত তাফসীর ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী : আল্লাহ্র জাত-পাকের পরিচয়-১ম খণ্ড’, অনুরূপভাবে ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী: আল্লাহ্র গুণবাচক নামের পরিচয়-২য় খণ্ড, ৩য় খণ্ড, ৪র্থ খণ্ড, ৫ম খণ্ড, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৭ম খণ্ড এবং সর্বশেষ ৮ম খণ্ড’। যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান প্রণীত এ তাফসীর শরীফ পৃথিবীর অতুলনীয় একমাত্র তাফসীর; এ তাফসীর শরীফে জগদ্শ্রেষ্ঠ তাসাউফ বিজ্ঞানী মহান রাব্বুল আলামীনকে যে রূপে দেখেছেন, সে রূপের বর্ণনা পবিত্র কুরআন ও হাদীস শরীফের বহুসংখ্যক দলিল-সহ উপস্থাপিত হয়েছে, যে ওহীর বাণী ও হাদীসগুলো আমাদের অজানা ছিল। পরিশেষে সুদীর্ঘ আটটি খণ্ডে আল্লাহ্র পরিচয়ের এ অনন্য তাফসীর সমাপ্ত করা হয়েছে। অধিকন্তু তার দরবার শরীফ থেকে প্রকাশিত হয়েছে আল্লাহ্র সাহায্য লাভের অনন্য গ্রন্থ ‘মানতের নির্দেশিকা’। সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী হুজুর কেব্লাজান ঢাকার বুকে পরপর নয়টি বিশ্ব সূফী সম্মেলন, এবং পরবর্তীকালে প্রতি বছর বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে, জগৎ জুড়ে সূফীবাদের গণজাগরণ এনেছেন এবং ঘরে ঘরে সূফীবাদের শিক্ষাকে সর্বসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য করার উদ্দেশ্যে, তাঁর নির্বাচিত সূফীবাদের বিভিন্ন দিক নিয়ে আশেকে রাসুলগণ এম. ফিল এবং পিএইচ.ডি’র গবেষণা সম্পন্ন করছেন। উপরন্তু তাঁর শিক্ষা এবং সংস্কার মূলক কার্যাবলীকে গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে নির্বাচিত করে আশেকে রাসুলগণ সফলতার সাথে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করছেন।
মানবসেবায় সূফী সম্রাট
সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান তাঁর হায়াতে জিন্দেগির পুরোটা সময় মানবতার সেবায় কাজ করেছেন। পাপ-পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত, অশান্তিতে নিপতিত মানুষের চরিত্রকে পরশপাথরের ন্যায় পরিবর্তন করে তিনি যেমন মানুষের অন্তর্জগতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন, তেমনিভাবে মানুষের জাহেরি দুঃখ-কষ্ট দূরীকরণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৮৮, ১৯৯৮-এর বন্যা থেকে শুরু করে দেশের সর্ব প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তিনি দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ সকল দুর্যোগে তিনি আর্ত মানবতার সেবায় বিপুল পরিমাণ ত্রাণ বিতরণ করেছেন। শুধু তাই নয়, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে করোনা ভাইরাস মহামারীর সময় পুরো দেশ যখন বিপর্যস্ত, দীর্ঘদিন টানা লকডাউনে থাকার কারণে দরিদ্র মানুষের অভাব যখন চরমে, তখনই সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান সারা দেশের গরিব-দুঃখী মানুষের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি-সহ প্রচুর ত্রাণ বিতরণ করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময় স্কুল, কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থ সাহায্য দিয়ে দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।
উপসংহার
সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান মাত্র ৭৩ বছরের হায়াতে জিন্দেগিতে এত বিপুল পরিসরে কাজ করে গিয়েছেন, যা সত্যিই বিস্ময়কর। এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাঁর ভক্তকূলকে শোক সাগরে ভাসিয়ে মহান আল্লাহ্র সান্নিধ্যে দারুল বাকায় তশরিফ নেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। তবে তাঁর ওফাতের মধ্য দিয়ে মোহাম্মদী ইসলামের গণজোয়ার একটুও কমেনি, কেননা তিনি তাঁর জীবদ্দশায়ই স্বীয় সাহেবজাদা-সাহেবজাদীগণকে মোহাম্মদী ইসলাম পরিচালনার জন্য সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। আর বর্তমানে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের সুযোগ্য সাহেবজাদা ও সাহেবজাদীগণ স্বীয় পিতা ও মোর্শেদের আদর্শ বিশ্বব্যাপী প্রচার-প্রসারের জন্য সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের ৭৬তম শুভ জন্মবার্ষিকীতে বাংলাদেশের এই সূর্যসন্তান ও বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

