আজ
|| ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১৭ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
অবশেষে তালা হাসপাতালের দূর্ণীতিবাজ ডাঃ রাজিবের বদলীর আদেশ!
প্রকাশের তারিখঃ ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাতাল, দূর্ণীতিবাজ, সেচ্ছাচারী, সরকারী সম্পদ তছরুপকারী ডাঃ রাজিব সরদার কে নড়াইল সদর হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৪৫.০১.০০০০.০০০.০০৪.২৫.০০০৩.২৫.৮৬-৮০৪ নং স্বারকে এই আদেশ প্রদান করা হয়। এই একই স্বারকে নড়াইল সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার কে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে স্থলিভূক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে।
এরআগে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাতাল, দূর্ণীতিবাজ, সেচ্ছাচারী, সরকারী সম্পদ তছরুপকারী ডাঃ রাজিব সরদারের আমলনামা প্রকাশ করে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রতিকার চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ পত্রসূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানা অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দূর্ণীতি, স্বজনপ্রিতি, বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত। দীর্ঘদিন একই ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সখ্যতার কারণে ৫ আগষ্টের পরে উপজেলা কর্মকর্তা নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে না পারাই এর মূল কারণ। তাছাড়া মাদক সেবন, নিয়মিত অফিস না করার কারণে নানা অনিয়ম মধ্যে দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটি। সেবা প্রত্যাশিরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী জনসাধারণের পক্ষে উপ-পরিচালক বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায়, তালা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাজিব সরদার কর্মজীবনের শুরুতে তালা হাসপাতালে যোগাদান করেন। ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতার সন্তান হওয়ার সুবাদে তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে গড়ে ওঠে গভীর সখ্যতা। সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে বেড়িয়েছেন। তিনি অফিসে মদ্যপ অবস্থায় থাকলেও দলীয় প্রভাবের কারণে কেহই প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি।
তিনি নিয়মিত মদ্যপ অবস্থায় অফিস করেন। অফিস চলাকালীন সময়ে মাতাল অবস্থায় থাকার কারণে সহকর্মীদের সাথে প্রায়ই অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে দেখা যায়। চাকুরী চলে যাওয়ার ভয়ে কেউ মুখ খোলে না।
একটি সূত্র জানায়, প্রতি জুন মাসে ডাক্তার রাজিব সরদার ভূয়া বিল ভাউচারে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। মাষ্টাররোলে চাকুরী দিয়ে তাদেরকে কাজে না লাগিয়ে ভূয়া স্বাক্ষরে বেতন উঠিয়ে আত্মসাৎ করেন।
৫ আগষ্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। প্রতিদিন তার রুমের সামনে লম্বা লাইন দেখা গেলেও তাকে দেখা যায় না। ঠিক মতো অফিস না করার কারণে সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবল হোসেন তালা হাসপাতালে রোগীদের সুবিধার জন্য ২ ওয়ার্ডে ১২ টি এসি লাগিয়ে দেন। কিছুদিন পূর্বে ১০ এসির মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যায়। অথচ এ বিষয়ে তার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। সাধারণ মানুষের ধারণা, ডাঃ রাজিব সরদার তার পছন্দের লোক দিয়ে এগুলো চুরি করিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, এই চুরির সাথে হাসপাতালের প্রধান সহ অনেকই জড়িত। তারা যদি জড়িত না থাকবে তাহলে তদন্ত বা কোনো মামলা হলো না কেন? শুধু তাই নয়, হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের পুরাতন বিল্ডিং এর জানালার গ্রিল, লোহার গেইট চুরি হয়ে গেছে অথচ ডাঃ রাজিব সরদার জেনেও না জানার অভিনয় করছেন।
তারা বলেন, ডাঃ রাজিব সরদার ৫ আগষ্টের পরে ঠিকমতো অফিস করেন না। সপ্তাহে ১-২ দিন অফিসে আসেন। তাও আবার ১২ টার দিকে এসে ২ টায় চলে যায়। তালা হাসপাতালে অনিয়ম, দূর্ণীতি ও দ্বায়িত্বে অবহেলাই রোগী সেবার বড় অন্তরায়। তাকে হাসপাতাল থেকে না সরালে জনসাধারণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তালা হাসপাতালে ঠিকাদাররা নিন্ম মানের সামগ্রী সরবরাহ করা হলেও গ্রহণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিডিউলে উল্লেখিত উপকরণের পরিবর্তে নিম্ন মানের সামগ্রী সরবরাহ করে। বিনিময়ে ডাঃ রাজিব সরদার লক্ষ লক্ষ টাকা উপঢোকন নিয়ে থাকেন বলে একটি সূত্র জানায়।
তালায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এবিষয়ে প্রশ্ন করলে ডাঃ রাজিব সরদার কোনো উত্তর দিতে পারেনি।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডাঃ রাজিব সরদার আপাদমস্তক দূর্ণীতিগ্রস্থ। যার কারণে অব্যবস্থাপনা নৈরাজ্যর জেঁকে বসেছে। হাসপাতাল চালানোর অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা তার নেই। সে অধিকাংশ সময় মাতাল অবস্থায় থাকে। সে কারণে কাহারও সাথে ভালো ব্যবহার করে না। রাতে হাসপাতালে থাকলে মদ খেয়ে মাতলামি করেন বলে জানা গেছে। হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে ও সকল দূর্ণীতি, অনিয়ম, অব্যস্থাপনার প্রতিকার চেয়ে তালা প্রসক্লাবের সভাপতি সহ একাধিক সাংবাদিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন।
তালা প্রসক্লাবের সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, ডাঃ রাজিব সরদার আপাদমস্তক দূর্ণীতিগ্রস্থ। যার কারণে অব্যবস্থাপনা নৈরাজ্যের জেঁকে বসেছে। হাসপাতাল চালানোর অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা তার নেই। সে অধিকাংশ সময় মাতাল অবস্থায় থাকে। সে কারণে কাহারও সাথে ভালো ব্যবহার করেন না। রাতে হাসপাতালে থাকলে মদ খেয়ে মাতলামি করেন। হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে ও সকল দূর্ণীতি, অনিয়ম, অব্যস্থাপনার প্রতিকার চেয়ে আমিসহ কয়েকজন সাংবাদিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের নিকট লিখিত আবেদন করেছি।
আবেদনের প্রক্ষিতে ইতিমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অনিয়ম, দূর্ণীতির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত ৪৫.৪০,০০০০.০০২.২৭.০০১.২৫ নং স্বারকে যশোর সিভিল সার্জন ডাঃ মাসুদ রানা কে সভাপতি ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ নাজমুস সাদিক, মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফাইয়াজ আহমদ ফয়সল কে সদস্য করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেন জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
সম্পাদক: মো: রবিউল হক। প্রকাশক: মো: আশ্রাফ উদ্দিন ।
প্রকাশক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২, টয়েনবি সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে মুদ্রিত
দেলোয়ার কমপ্লেক্স, ২৬ শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক (হাটখোলা), ওয়ারী, ঢাকা -১২০৩ থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭৯৮৬৫৫৫৫৫, ০১৭১২৪৬৮৬৫৪
ওয়েবসাইট : dailyjanadarpan.com , ই-পেপার : epaper.dailyjanadarpan.com
Copyright © 2026 Daily Janadarpan. All rights reserved.