
স্টাফ রিপোর্টার : বিতর্ক যেনো পিছু ছাড়ছে না রাষ্ট্র মালিকানাধীন জ্বালানি গোদনাইল মেঘনা পেট্রোলিয়ামের। এ ডিপোর অনিয়ম সর্বজনবিদিত।মেঘনা পেট্রোলিয়ামের দুর্নীতিবাজ সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতানকে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে ম্যানেজ করে অনেক অযোগ্য কর্মকর্তা এ ডিপোতে নিজেদের পদায়ন করেছেন। গোদনাইল মেঘনা ডিপোতে সম্প্রতি সহকারী ম্যানেজার (অপারেশন্স) পদে যোগ দিয়েছেন মাসুদ হাসান এহসান। ডিপোতে যারা এ পদে দায়িত্ব পালন করে থাকেন তাঁদের যোগ্যতা ইলেকট্রিক, ইলেকট্রনিক্স ও ক্যামিকেল বিষয়ের ওপর ডিপ্লোমা বা বিএসসি থাকতে হবে। কিন্তু দৈনিক জনদর্পণের অনুসন্ধানে জানা যায়, মাসুদ হাসান এহসান আইসিটি বিষয়ের ওপর ডিপ্লোমা ও বিএসসি করেন। মেঘনা পেট্রোলিয়ামে এ পদে অসংখ্য যোগ্য প্রার্থী থাকলেও অনিয়মের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ সাবেক এমডি টিপু সুলতান মাসুদ হাসান কে ডিপোতে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে পদায়ন করেছেন। ডিপোতে যোগদানের পরপরই নানান অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন মাসুদ হাসান। গত বুধবার (১৩ আগস্ট) গোদনাইল মেঘনা ডিপোতে ৯ হাজার লিটার ডিজেল বাদশা টেক্সটাইলের নামে ইনভয়েস করে। ডিজেল ডেলিভারি নেওয়ার জন্য ডিজেল পয়েন্টে ঢাকা মেট্রো-ঢ-১১-০০১৯ নম্বরের ট্যাংকলরী লোড নেয়। এ সময় ৯ হাজার লিটার তেলের সাথে অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫০ লিটার ডিজেলসহ মোট ১১ হাজার ২৫০ লিটার ডিজেল ওই ট্যাংকলরীতে লোড করা হয়।
জনদর্পণের অনুসন্ধানে জানা যায়, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের গোদনাইল ডিপোতে কর্মরত অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোঃ মাসুদ হাসানের নির্দেশে মিটারম্যান সবুজ অবৈধভাবে ২ হাজার ২৫০ লিটার ডিজেল অতিরিক্ত ট্যাংকলরী ড্রাইভারের যোগসাজসে বিক্রি করে। গোদনাইল এসও রোডের স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রনি ও তার সহযোগীরা খবর পেয়ে গাড়িটি আটক করে এবং ডিপোর ইনচার্জ মোঃ মাহবুবুর রহমানকে জানায়। এ নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা যাবৎ দেন-দরবার চলে। অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোঃ মাসুদ হাসান ডিপো ইনচার্জ ও রনির সহযোগীদের ম্যানেজ করে গাড়িটি ডিপো থেকে বের করে দেয়। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মিটারম্যান সবুজ ও আজিজকে মিটার থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়। আজিজ এ ব্যাপারে কিছু না জানা সত্ত্বেও তাকে অন্যত্র সরানো হয়।এ ব্যাপারে মিটারম্যান সবুজের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫০ লিটার ডিজেল দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও কার নামে ইনভয়েস হয়েছে তা তিনি বলেননি।
এবিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এমডি শাহীরুল হাসান বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতার এরকম কোন বাধ্যবাধকতা নেই। অনেকেই নরমাল করে এসে চাকরি করছে বিভিন্ন পদে। মাসুদ হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ডিজিএম (অপস:) মো: মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, মাসুদ হাসান কিভাবে নিয়োগ পেয়েছে তা আমাদের এইচআর অ্যাডমিন রয়েছেন তিনি ভালো বলতে পারবেন। তার কাছ থেকে বিষয়টি জেনে নিবেন।
এদিকে এ বিষয়ে কথা হলে সহকারী ম্যানেজার (অপারেশন্স) মাসুদ হাসান বলেন, ডিপোতে চাকরির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার এভাবে এটির নিয়ম নেই। এইচআর এটা বলতে পারবে কিভাবে নিয়োগ পেয়েছি।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে মেঘনা পেট্রোলিয়ামে অনিয়মের বিরুদ্ধে দৈনিক জনদর্পণসহ কয়েকটি পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়। গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তসাপেক্ষে খবরের সত্যতা পেয়ে মুখ্য সচিবের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। মুখ্য সচিব জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে অবহিত করেন। জ্বালানি মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পেরেশনকে (বিপিসি) অসৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়। এ নির্দেশনা পেয়ে বিপিসি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতানকে নির্দেশ দিলে তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করে গোদনাইল মেঘনা ডিপোতে তদন্তের জন্য পাঠায়। তদন্ত কমিটি অনিয়মের সত্যতা পেলে সাবেক ডিপো ইনচার্জ মোশাররফ ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার করুন কান্তি এবং মিটারম্যান কামালকে গোদনাইল মেঘনা ডিপো থেকে বদলি করা হয়।

