
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন ২০২৫-২৬ সালের নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আনিছুর রহমান মোল্লা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের রেজা-গালিব প্যানেলকে না জানিয়ে সরে যাওয়ায় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে প্যানেলটি।
২৩ আগষ্ট শনিবার রাত পৌনে ৮টায় কালিবাজারস্থ মোহামেডান এড.মোঃরেজাউল করিম খান রেজার ব্যক্তিগত চেম্বারে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন প্যানেলটি।
একই দিন বিকেল ৫টায় এড.মোহাম্মদ আনিছুর রহমান মোল্লা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের রেজা-গালিব প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষনা দেন।এরপরই রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের রেজা-গালিব প্যানেল একটি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন।সেখানে রেজা-গালিব প্যানেলের সদস্যদের না জানিয়ে প্যানেল থেকে আনিছুর রহমান সরে যাওয়ায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী এড.মোঃরেজাউল করিম খান রেজা।
এবিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এড.রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন,কিছুক্ষণ আগে অনলাইনে আমরা দেখলাম আমাদের সহ-সভাপতি পদের একজন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।উনি সরে দাঁড়িয়েছেন সেটা উনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।উনি সরে যাওয়ার আগে আমাদের প্যানেলের সকলের সাথে আলাপ আলোচনা করে সরে যাওয়া উচিত ছিলো।কিন্তু উনি করেনি।উনি বলেছেন উনি দলের নির্দেশে সরে দাঁড়িয়েছেন। আমরাও কিন্তু বিএনপি করি এবং নির্বাচন করছি।আমরাও বারের সদস্য হয়েও নির্বাচন করছি। উনি বলেছেন ফোরাম থেকে চাপ দেওয়া হয়েছে।আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে বসেছি আমাদেরকে কোন চাপ দেওয়া হয়নি।এবিষয় আলোচনা হয়েছে উনারা বলেছেন লিখিত দেন আমরা এবিষয়ে দেখবো কিন্তু উনারা বসে যাওয়ার কোন চাপ দেননি।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় যে চারজনের নাম বলেছেন তারমধ্যে প্রথম দুইজন। আমরা গতকাল পুরো বন্দরে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছি। সারাদিন আমরা সেখানে নির্বাচনী প্রচারণা করেছি। উনি যে চারজনের নাম বলেছেন তার প্রথম দুই জনের সাথে আমরা দেখা করেছিলাম। কিন্তু উনারা কেউ তো বলেনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে। যদি উনি বলতেন তাহলে আমাদেরকে বলতেন।আমাদের কাউকে বলেনি।দুপুরে আমরা তার সাথে দেখা করেছি।উনি আমাদেরকে বললেন না কিন্তু উনাকে বলেছেন এটা বিশ্বাসযোগ্য না।
মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড.সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করে রেজা বলেন, আনিছুর রহমান যে দুইজনের নাম বলেছেন সে দুইজন আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলকে পরিচালনা করেন।এবং আমাদের যুদ্ধটা উনাদের সাথে। আমাদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী উনি নিয়মিত বলে যাচ্ছেন উনাদের দুইজনের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ আমাদের সেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের পরিচালনা যারা করেন তিনি তাদের কথায় সরে দাঁড়িয়েছেন।এবং উনি আরেকটা কথা বলেছেন আমি সরে দাঁড়ালাম আমি ওই প্যানেলের হয়ে কাজ করবো এবং তাদের মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করবো এবং কাজ করবেন।এটা কি একটা প্রশ্নবোধক না? এটা একটা সাধারণ মানুষও বুঝে এবং একেবারে নিরহ মানুষও বুঝে এই কথার অর্থটা কি।সুতরাং আমরা অনুমান করতেছি উনাকে হয়তো চাপে, নয় ভয় দেখিয়ে, নয় প্রলোভন দেখিয়ে আর নয় দলের উচ্চ পদের কেউ ভয় দেখিয়ে উনাকে এখান থেকে সরতে বাধ্য করেছেন।উনি সরে গেলেও আমরা অবশিষ্ট যারা আছি আমরা কেউ সরবো না।আমরা নির্বাচন করবো। নির্বাচনী প্রচারণা করবো এবং আগামী ২৮ তারিখ পর্যন্ত আমরা নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবো।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের রেজা-গালিব প্যানেলকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও জানা।একটি সূত্র থেকে জানা যায় এই প্যানেলটিকে বসে যেতে ৪৫ লক্ষ টাকারও একটি অফাএ দেওয়া হয়েছে।

