আজ শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাদু দেখিয়ে স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ২ ভরি ১৩ আনা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) জেলা পুলিশ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

উদ্ধারকৃত স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে রয়েছে ১৯টি আংটি, ৬ জোড়া কানের দুল, একটি দড়ি চেইন, দুটি কমল চেইন, দুটি পাক চেইন এবং একটি টিকলি। এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

আটককৃতরা হলেন খুলনার ডুমুরিয়ার নফল আলীর ছেলে আসাদুল শেখ ওরফে রাজু এবং যশোর সদর উপজেলার আব্দুল গফ্ফারের ছেলে খাইরুল ইসলাম। এই ঘটনায় সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর পূর্বপাড়ার মৃত মানিক দাসের স্ত্রী গোলাপী রানি দত্ত বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।

জেলা ডিবির ওসি মঞ্জুরুল হক ভূঁঞা বলেন, রাজু মোবাইল ফোনে গোলাপী রানীর সঙ্গে পরিচয় তৈরি করেন এবং নিজেকে ‘ধর্ম বোন’ পরিচয় দিয়ে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। পরে দাবি করেন, তিনি জাদুবিদ্যা জানেন। কাগজ থেকে টাকা বানানো এবং সোনা থেকে সোনা বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব। গত ১ আগস্ট রূপদিয়া রেলস্টেশনের পাশে দেখা করার সময় রাজু প্রাথমিকভাবে এক জোড়া দুল নিয়ে ‘জাদু’ দেখিয়ে বেশি স্বর্ণ দেখিয়ে ফেরত দেন। এতে লোভে পড়ে ৩ আগস্ট একই স্থানে গোলাপী রানি ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার তার হাতে তুলে দেন। এরপর রাজু কৌশলে সেগুলো নিয়ে পালিয়ে যান। বিভিন্নস্থানে খোঁজ করেও রাজুর সন্ধান পাননি গোলাপী। শেষমেষ বুধবার রাতে তিনি কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি পুলিশ।

ডিবি পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে রাজুকে আটক করে। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে রূপদিয়া বাজার থেকে সহযোগী খাইরুল ইসলামকেও আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে রাজু ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। আদালত দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

Exit mobile version