
মোঃ হাফিজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ কর্তৃক আয়োজিত জুলাই শহীদ দিবসের কর্মসূচিতে জুলাই যোদ্ধাদের আমন্ত্রণ না জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে প্রথম সারিতে জুলাই যোদ্ধারা।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাদের অভিযোগ,সরকারি কলেজে বিশেষ করে কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী এবং কিছু শিক্ষার্থী দেয়া হলেও তাদের জানানো কিংবা দাওয়াত দেয়া হয়নি। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের পক্ষ থেকে তাদের সাথে বৈষম্য করা হয়েছে। এ আয়োজনে বাদ পড়েছেন আন্দোলনের প্রধান সংগঠক ইমরান হোসেন, আন্দোলনের অন্যতম নেতা বখতিয়ার হোসেন, তৎকালীন ছাত্রশিবিরের মো. নাজমুল হোসেন রনি, কলেজ ছাত্রদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজুদ্দীনসহ প্রথম সারির অনেক নেতা।
এব্যাপারে কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থান ছিল ছাত্রসমাজের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। ছাত্রশিবির সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আজকের আয়োজনে আমাদের না ডাকা ইতিহাস ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা।
অপরদিকে ২৪ শে জুলাই যোদ্ধা বখতিয়ার হোসেন বলেন, আমি জানতেই পারিনি কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস হচ্ছে। নিশ্চই আমার থেকে বড় বিপ্লবীদের নিয়ে অনুষ্ঠান হয়েছে! যদি তা না হয়, তাহলে কাদের নিয়ে দিবস পালিত হলো? দুঃখের বিষয়, তখনও শিক্ষকেরা বৈষম্য করেছিলেন, এখনো করছেন।তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের যে অধ্যক্ষ দায়িত্বে ছিলেন, আন্দোলন চলাকালীন সময়ে তিনি আমাদের নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়ে আন্দোলন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তবুও আমরা পিছপা হইনি, আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছি, আর শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন ঘটেছে। সরকারের পাশাপাশি পতন ঘটেছে সেই অধ্যক্ষেরও।
এছাড়াও কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদুল আলম বলেন, ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। অথচ আজকের এই দিবসে আমাদের দাওয়াতও দেওয়া হয়নি, এটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বৈষম্য।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম বলেন, সব ছাত্রকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা আগের দিন। সরকারি কোনো নির্দেশনা নেই, আমাদের বিভাগেরও কোনো নির্দেশনা নেই। তবে জুলাই মাসের ৩১ তারিখে একটি প্রাথমিক নির্দেশনা দেখে আমরা প্রোগ্রাম আয়োজন করেছি।

